ছোটবেলা থেকে গজুকে খুব পছন্দ করে তিথি। গজু দেখতে খুব সুন্দর। একেবারে নায়ক নায়ক চেহারা। ওর লম্বা লম্বা দুটো হাত আছে, সোজা সোজা পা, পায়ে গামবুটের মতো জুতো। মাথাজোড়া কোঁকড়া কালো চুল যা উল উল মনে হয়। আর চোখ দুটো এমন টানা টানা যে মনে হয় কোন আর্টিস্ট দামী কলম দিয়ে একেঁছে তার চোখ দুটো। তবে বাইরে থেকে দেখলে বোঝা না গেলেও কাপড়ের নিচেই রয়েছে গজুর খড়ের তৈরী শরীর। হাওয়াই চপ্পলের রবার কেটে তার ওপর উল জড়িয়ে বানানো হয়েছে হাতটা। মাথার চুলগুলোও এমন উলের তৈরী। তিথির বাবা সেই ছোট বেলায় তিথির জন্য বানিয়ে দিয়েছিলেন এই পুতুলটা। তিথি তখন এক বছর বয়সী। বাবাই তার সব। তিথির জন্মের সময় মা যখন না ফেরার দেশে চলে গেলেন তখন থেকে বাবাই তার বাবা, বাবাই তার মা। স-অ-ব। বাবার হাতে টাকা ছিলোনা তখন। চাকরি নেই। তিথি রাতদিন কাঁদতো। বাবা তাকে বোঝানোর অনেক চেষ্টা করতো। তিথি কি বোঝে? তার বয়স মাত্র এক বছর। তখন বাবা তাকে এই গজু বানিয়ে দিয়েছিলো। বাবাই দিয়েছিলো এই অদ্ভুত নাম।
Showing posts with label ভৌতিক. Show all posts
Showing posts with label ভৌতিক. Show all posts
Sunday, July 17, 2016
Saturday, July 16, 2016
দিগন্তের একজন
যে বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম সে বছর অনেক গরম পড়েছিলো। প্রচন্ড গরমে ক্লাস করতেও ইচ্ছে করতোনা। আমাদের বাড়িতে সার্বক্ষনিক এসি চলে কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে এসির কথা তো ভাবাই যায়না। স্বাভাবিকভাবে দুপুরের দিকে গরমে হাঁসফাঁস করতে করতে যখন ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে আসতাম টিএসসির বিশাল বিশাল গাছগুলোর নিচে দাঁড়িয়ে একটু শীতল হবার চেষ্টা করতাম সবাই মিলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী ডিপার্টমেন্টের দিকে সবারই একটু বেশী নজর থাকে।
সেই কারনেই আমাদের ব্যাচে প্রচুর ছাত্রছাত্রী এবারও ভর্তি হলো। এমন অবস্থা যে বেঞ্চে বসার জায়গাও নেই। ক্লাসে সবাই আন্তরিক। ছেলে মেয়ে কোন ভেদাভেদ নেই। ফার্স্ট ইয়ারে যা ক্লাস হয় তার চেয়ে বন্ধুত্ব হয় বেশী।
সেই কারনেই আমাদের ব্যাচে প্রচুর ছাত্রছাত্রী এবারও ভর্তি হলো। এমন অবস্থা যে বেঞ্চে বসার জায়গাও নেই। ক্লাসে সবাই আন্তরিক। ছেলে মেয়ে কোন ভেদাভেদ নেই। ফার্স্ট ইয়ারে যা ক্লাস হয় তার চেয়ে বন্ধুত্ব হয় বেশী।
সবার সাথে পরিচয় করতে করতেই দিন যায়। তিন মাস যেতে না যেতে সবার সাথে এমন বন্ধুত্ব হয়ে যায় যে মনে হয় এরা আমার কতো দিনেরই না চেনা। আমি যে একটা মেয়ে এটা আমার প্রায়ই মনে থাকেনা। কেবল আয়নায় দাঁড়ানোর পরই এটা মনে আসে আমার। আমার মা প্রায়ই হাসতে হাসতে বলেন, আমার মেয়েটা এতো সুন্দরী যে ওর জন্য পাত্র দেখাও লাগবেনা। আমার মেয়ের জন্য একটা রাজপুত্র জোগাড় হয়ে যাবে। আমি হেসে বলতাম, কিযে বলোনা মা, এখনই এসব কথা ভাবো তুমি!

